“একজন সীমান্ত আঁকলেন, আরেকজন দিগন্ত”
জিন্নাহ বনাম মওদূদী: ইতিহাস পাঠের ভুল ডাইকোটমি ও সভ্যতাগত সত্য
১. ফ্রেমের ভুল এবং দুই ভিন্ন প্রশ্ন
মওদূদী আর জিন্নাহরে মুখোমুখি দাঁড় করানোটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলপাঠগুলার একটা।
যদি ধরে নেওয়া হয় তারা একই মাঠে খেলতেছিলেন, একই লক্ষ্য নিয়ে লড়তেছিলেন, একজন জিতছে, আরেকজন হারছে অথবা একজন নায়ক, আরেকজন ভিলেন—এভাবে ফ্রেমিং করাটাকে শুধু ইতিহাসের ভুল পাঠ নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা হিসেবেই দেখা দরকার। আসলে জিন্নাহ আর মওদূদী দুইজন দুই ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেছিলেন:
জিন্নাহর সামনের প্রশ্ন: "ব্রিটিশরা চইলা গেলে ভারতীয় মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে টিকবে কেমনে?"
মওদূদীর সামনের প্রশ্ন: "খেলাফত পতনের পর মুসলিম উম্মাহ সভ্যতাগতভাবে আবার দাঁড়াইবে কেমনে?"
একজনের দৃষ্টি ছিল ভারতবর্ষ; আরেকজনের দৃষ্টি ছিল উম্মাহ। একজনের লড়াই ছিল Political Survival (রাজনৈতিক টিকে থাকা)-এর জন্য; আরেকজনের লড়াই ছিল Civilizational Revival (সভ্যতাগত পুনর্জাগরণ)-এর জন্য। একজনের প্রধান ইউনিট ছিল Nation; আরেকজনের প্রধান ইউনিট ছিল Ummah।
জিন্নাহ ছিলেন Nation-State Builder, আর মওদূদী ছিলেন Civilizational Thinker। জিন্নাহ মানচিত্রের দিকে তাকাইতেন; মওদূদী ইতিহাসের দিকে তাকাইতেন। জিন্নাহ একটা ভূখণ্ডের নিরাপত্তা চাইছেন; মওদূদী একটা সভ্যতার পুনর্জাগরণ চাইছেন।
জিন্নাহ চিন্তা করতেছিলেন মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরাষ্ট্রের নিচে সাবঅল্টার্নে পরিণত হইয়া যাবে কিনা। মওদূদী চিন্তা করতেছিলেন—মুসলমানরা রাষ্ট্র পাইলো ধরলাম, কিন্তু এরপর? রাষ্ট্র পাইয়া যদি পশ্চিমা সেক্যুলারিজম, জাতীয়তাবাদ আর ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্বের গোলামই থাকল, তাইলে লাভ কী?
তাই তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কৌশলগত বিরোধ থাকতেই পারে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশেও তারা ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়াইতে পারেন। কিন্তু সেই মতপার্থক্যরে অস্তিত্বগত শত্রুতা বানানো ইতিহাসের সাথে বেইমানি।
বাস্তবতা হইল: জিন্নাহ মুসলমানদের জন্য একটা ঘর বানাইতে চাইছিলেন, আর মওদূদী সেই ঘরের উদ্দেশ্য কী হইবে, সেই প্রশ্ন করতেছিলেন। জিন্নাহ যদি Boundary-এর স্থপতি হন, মওদূদী ছিলেন Meaning-এর স্থপতি। জিন্নাহ যদি Homeland-এর রাজনীতি করেন, মওদূদী করেন Civilization-এর রাজনীতি। একজন সীমান্ত আঁকছেন, আরেকজন দিগন্ত আঁকছেন।
এই দুইজনরে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখা মানে একজন স্থপতি আর একজন দার্শনিকরে একই মাপে মাপার চেষ্টা করা। একজন রাষ্ট্রের জন্মের গল্পের নায়ক, আরেকজন সেই রাষ্ট্র এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎ কী হইবে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অভিযাত্রার পথিকৃৎ। সুতরাং "জিন্নাহ না মওদূদী" অর্থাৎ ডাইকোটমি টাইপ এই প্রশ্নটাই ভুল প্রশ্ন।
২. পাকিস্তানের সীমানা এবং মওদূদীর 'তারপর'-এর প্রশ্ন
মওদূদীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এইখানেই যে, তিনি পাকিস্তানকে গন্তব্য মনে করেন নাই; তিনি পাকিস্তানকে একটা সম্ভাবনা মনে করছিলেন। জিন্নাহর রাজনৈতিক কল্পনার কেন্দ্র ছিল ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা। তাঁর প্রধান প্রশ্ন ছিল ব্রিটিশরা চইলা গেলে মুসলমানরা বাঁচবে কেমনে? সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু রাজনীতির নিচে তাদের অস্তিত্ব, অধিকার ও মর্যাদা টিকবে কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর তিনি খুঁজছিলেন পাকিস্তানের মধ্যে।
কিন্তু মওদূদীর প্রশ্ন ছিল আরও বড়, আরও দীর্ঘমেয়াদি।
ধরেন পাকিস্তান হইল। তারপর?
একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র তৈরি হইল। তারপর?
মুসলমানদের হাতে পতাকা আইলো। তারপর?
এই "তারপর"-এর প্রশ্নটাই মওদূদীর প্রশ্ন।
খেলাফতের পতনের পরে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংকট ছিল শুধু ভূখণ্ড হারানো না; সংকট ছিল ধারণা হারানো। মুসলমানরা রাষ্ট্র হারাইছিল, কিন্তু তারও আগে হারাইছিল আত্মবিশ্বাস। তারা সামরিকভাবে পরাজিত হইছিল, কিন্তু তারও আগে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পরাজিত হইছিল। পশ্চিম বলতেছে ইতিহাস কী, রাষ্ট্র কী, উন্নয়ন কী, আধুনিকতা কী, স্বাধীনতা কী—আর মুসলমানরা সেই অভিধান ধার কইরা নিজেদের ভবিষ্যৎ বুঝার চেষ্টা করতেছে।
মওদূদী এইখানেই ভিন্ন। তিনি শুধু একটা দেশ চান নাই; তিনি একটা সভ্যতার পুনর্জাগরণ চাইছিলেন। তাঁর কাছে ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের নাম না, কেবল মসজিদের নাম না, কেবল ফিকহের নাম না। ইসলাম ছিল একটি Civilization, একটি পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা, যার নিজস্ব আইন আছে, নিজস্ব নৈতিকতা আছে, নিজস্ব অর্থনীতি আছে, নিজস্ব রাজনীতি আছে, এমনকি ইতিহাস ও মানবজীবন ব্যাখ্যার নিজস্ব পদ্ধতিও আছে।
এই কারণেই মওদূদীর লেখালেখি পড়লে দেখা যায়, তিনি শুধু ভারত বা পাকিস্তান নিয়ে ব্যস্ত না। তিনি কথা বলতেছেন উম্মাহ নিয়ে। তিনি কথা বলতেছেন মুসলিম পুনর্জাগরণ নিয়ে। তিনি কথা বলতেছেন এমন এক বিশ্বব্যাপী ইসলামি পুনর্গঠনের, যেটা কায়রো থেকে করাচি, দামেস্ক থেকে ঢাকা, ইস্তাম্বুল থেকে জাকার্তা পর্যন্ত বিস্তৃত।
জিন্নাহর রাজনৈতিক প্রকল্পের নাম পাকিস্তান। মওদূদীর রাজনৈতিক প্রকল্পের নাম ছিল Muslim Civilizational Revival। একজন রাষ্ট্রের জন্মের স্থপতি; আরেকজন রাষ্ট্রের পরবর্তী অর্থ খোঁজার দার্শনিক। একজন মুসলমানদের জন্য Homeland চাইছেন; আরেকজন জিজ্ঞেস করতেছেন এই Homeland-এর আত্মা কী হইবে?
এই কারণেই মওদূদীর স্বপ্ন পাকিস্তানের চেয়ে বড় ছিল। পাকিস্তানের বিরোধিতা করার কারণে না, বরং পাকিস্তানকেও ছাড়াইয়া আরও বড় এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজার কারণে। পাকিস্তান ছিল একটা মানচিত্র; মওদূদীর কাছে ইসলাম ছিল একটা ওয়ার্ল্ডভিউ বা বিশ্বদৃষ্টি। পাকিস্তান ছিল একটা ভূখণ্ড; মওদূদীর কাছে উম্মাহ ছিল একটা সভ্যতা। আর ইতিহাসে সভ্যতার প্রশ্ন প্রায়ই রাষ্ট্রের প্রশ্নের চেয়ে দীর্ঘজীবী হয়।
৩. মুসলিম রাষ্ট্র বনাম ইসলামী রাষ্ট্র
খলীফা মুসলমান হইতে পারে, বাদশাহ মুসলমান হইতে পারে, প্রেসিডেন্ট মুসলমান হইতে পারে, কিন্তু তাতে রাষ্ট্রের প্রকৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামী হইয়া যায় না—মওদূদীর মূল প্রশ্ন ছিল এইখানে:
A Muslim State is not automatically an Islamic State.
এই কথাটা আজকে শুনতে খুব সাধারণ লাগে। কিন্তু বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রশ্নটাই ছিল বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিস্ফোরক। রাষ্ট্র কাকে বলে? সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) কার? আইনের চূড়ান্ত উৎস (Source of Legislation) কী? Political Authority-এর বৈধতা কোথা থেকে আসে? জাতি (Nation) আগে, নাকি আকিদা (Creed) আগে?—এই প্রশ্নগুলা নিয়ে মুসলিম বিশ্ব তখনও সুসংহত ভাষায় কথা বলা শুরু করে নাই। মওদূদী সেই ভাষা তৈরির চেষ্টা করলেন।
তিনি বললেন, শুধু মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো রাষ্ট্রকে ইসলামী বানায় না। মুসলমান জনগোষ্ঠী আর ইসলামী রাজনৈতিক দর্শন এক জিনিস না। একটা দেশে মসজিদ থাকতে পারে, রোজাদার মানুষ থাকতে পারে, হজযাত্রী থাকতে পারে; তারপরও সেই রাষ্ট্রের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি (Epistemological Foundation), আইনগত ভিত্তি (Legal Foundation) এবং Political Legitimacy (রাজনৈতিক বৈধতা) পুরোপুরি অন্য জায়গা থেকে আসতে পারে।
এইখানেই তিনি মুসলিম বিশ্বের সামনে নতুন এক ডিসকোর্স খুলে দেন। আজকে Political Islam, Islamic Constitutionalism, Hakimiyyah, Islamic Governance, Ideological State, Islamic Revivalism—এইসব পরিভাষা যেই বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের অংশ, সেই জগতের অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন মওদূদী। আজকে Political Islam নিয়ে যে আলোচনা হয় তার অর্ধেক vocabulary মওদূদীর তৈরি।
৪. ঔপনিবেশিক চিন্তামুক্তি ও ধারণার নির্মাতা
আজকের Decolonial Studies-এ একটা বিখ্যাত কথা আছে:
"Colonialism conquered land. Modernity conquered minds."
মওদূদীর পুরো প্রকল্পটা ছিল দ্বিতীয়টার বিরুদ্ধে। ব্রিটিশের পতাকা নামাইয়া ফেলা সহজ; ব্রিটিশের worldview মাথা থেইকা নামানো কঠিন। রাষ্ট্র স্বাধীন হইতে পারে, কিন্তু চিন্তা যদি এখনও ঔপনিবেশিক থাকে, তাইলে উপনিবেশ শেষ হয় নাই, শুধু রূপ বদলাইছে।
এই অর্থে মওদূদী ছিলেন এক ধরনের Decolonial Thinker। আফ্রিকার জন্য Frantz Fanon যেই প্রশ্ন তুলছেন, ইরানের জন্য Ali Shariati যেই প্রশ্ন তুলছেন, মুসলিম বিশ্বের জন্য মওদূদী প্রায় সেই প্রশ্নই তুলতেছিলেন ইসলামী তরিকায়।
জিন্নাহ ছিলেন একজন অসাধারণ রাষ্ট্রনেতা। কিন্তু মওদূদীর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। তিনি মূলত ছিলেন একজন Ideological Entrepreneur—ধারণা নির্মাতা, ভাষা নির্মাতা, রাজনৈতিক কল্পনা নির্মাতা।
Napoleon Bonaparte ফ্রান্স শাসন করলেও Jean-Jacques Rousseau এখনও রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে আছেন। Vladimir Lenin অনেক আগেই ইতিহাসের অংশ হয়েছেন, কিন্তু Karl Marx এখনও বিতর্ক, গবেষণা ও রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। কারণ রাষ্ট্রনেতারা বাস্তবতা পরিচালনা করেন, আর ধারণা নির্মাতারা মানুষের বাস্তবতাকে বোঝার ভাষা তৈরি করেন।
এই অর্থে মওদূদী ছিলেন একজন Idea Producer। তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা নন; তিনি এমন এক শব্দভাণ্ডার, এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো নির্মাণ করেছেন যার মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তার বড় একটি অংশ নিজেকে প্রকাশ করেছে। "ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা", "ইসলামী রাষ্ট্র", "হাকিমিয়্যাত", "ইকামাতে দ্বীন", "আদর্শভিত্তিক সংগঠন"—এই ধারণাগুলোর আধুনিক রাজনৈতিক রূপায়ণে তাঁর অবদান গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।
এই কারণেই জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রধানত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কিত হইলেও মওদূদীর প্রভাব পাকিস্তানের সীমানা বহু আগেই অতিক্রম করেছে। তাঁর লেখা, চিন্তা ও সংগঠনগত মডেল প্রভাব ফেলছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, indonesia, মিশর, জর্ডান, ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের বহু অঞ্চলে।
বিশ শতকের মুসলিম চিন্তকদের মধ্যে খুব কম মানুষই এমন বৈশ্বিক পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করতে পারছেন। তাঁর বই কয়েক ডজন ভাষায় অনুবাদ হইছে, তাঁর ধারণা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হয়েছে, তাঁর সমর্থক ও সমালোচক উভয় পক্ষই তাঁকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হইছে।
৫. সঠিক প্রশ্ন ও সমন্বিত ইতিহাস
সবশেষে একটা প্রশ্ন করা দরকার। জিন্নাহ আর মওদূদীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রয়োজনটা আসলে কার? কেন বারবার এমন একটা ফ্রেম তৈরি করা হয়, যেখানে একজনকে নায়ক বানাইতে হইলে আরেকজনকে ভিলেন বানানো লাগে? কেন এমনভাবে ইতিহাস বলা হয়, যেন জিন্নাহ আর মওদূদী একই মাঠে খেলতেছিলেন, একই ট্রফির জন্য লড়তেছিলেন, আর একজনের জয় মানেই আরেকজনের পরাজয়?
সমস্যাটা সম্ভবত এইখানেই। এই ফ্রেমটা ধরেই নেয় যে মুসলমানদের ইতিহাসে রাষ্ট্রের প্রশ্ন আর সভ্যতার প্রশ্ন আলাদা আলাদা, পরস্পরবিরোধী দুইটা জিনিস। অথচ রাজনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন যেমন বাস্তব, তেমনি সভ্যতাগত পরিচয়ের প্রশ্নও বাস্তব।
রাষ্ট্র দরকার, রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যও দরকার।
ভূখণ্ড দরকার, সেই ভূখণ্ড কোন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নও দরকার।
এইখানে জিন্নাহ ও মওদূদীকে প্রতিদ্বন্দ্বী না, বরং ভিন্ন স্তরের দুইজন ঐতিহাসিক অভিনেতা হিসেবে দেখা অনেক বেশি যৌক্তিক। জিন্নাহ ও মওদূদীকে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা ইতিহাসের একটা অতি-সরলীকরণ। জিন্নাহ ছাড়া হয়তো পাকিস্তান হইত না; মওদূদী ছাড়া পাকিস্তানের বাইরেও মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তার পুনর্জাগরণ এই রূপে ঘটত কিনা, সেই প্রশ্ন থেকে যায়।
আমাদের চিন্তা করা উচিত, মুসলমানদের রাজনৈতিক মুক্তি এবং মুসলমানদের সভ্যতাগত পুনর্জাগরণ এই দুইটা প্রকল্প কিভাবে একই ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় হইয়া উঠছে। কারণ ইতিহাসের বড় রূপান্তরগুলো প্রায়ই একজন মানুষ একা ঘটায় না।
জিন্নাহ আমাদের রাজনৈতিক মুক্তির আইকন, তেমনি মওদূদী আমাদের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও দার্শনিক। আমাদের রাজনীতি, আমাদের সভ্যতাগত আযাদী, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের লড়াইয়ে জিন্নাহ ও মওদূদী অতি গুরুত্বপূর্ণ দুইজন।
আপনার রিঅ্যাকশন দিন:

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন